পারভেজ আহমদ :::বছরের পর বছর শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে একটু একটু করে জমানো পাথর। আইন মেনে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বন্ধ রেখেছিলেন পাথর স্থানান্তরও। অথচ সেই কষ্টার্জিত সম্পদই এখন সরকারি নিলামে। নিজেদের জমানো পাথরের মালিকানা ফিরে পেতে প্রয়োজনে ট্যাক্স, ভ্যাট এমনকি নির্ধারিত জরিমানাও দিতে রাজি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বনপুর গুচ্ছগ্রামের ২৩০ পরিবার।
উৎমাছড়া কোয়ারি থেকে লিজের মেয়াদে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর সংগ্রহ ছিল এসব পরিবারের অন্যতম জীবিকা। সংগ্রহ করা পাথর বাড়ির উঠান ও আশপাশে স্তূপ করে রাখতেন তারা। ২০২১ সালে লিজের মেয়াদ শেষ হলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পাথর স্থানান্তর বন্ধ করে দেন।
গ্রামবাসীর দাবি, লিজ চলাকালীন বৈধভাবে সংগ্রহ করা এসব পাথর নানা কারণে সময়মতো সরিয়ে নিতে পারেননি তারা। সম্প্রতি সেগুলো জব্দ দেখিয়ে সরকারি নিলামে দেওয়া হয়েছে। এতে নিজেদের শেষ সম্বল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন দরিদ্র পরিবারগুলো।
এসব পরিবারের ভাষ্য, ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে শ্রমের বিনিময়ে জমানো এসব পাথর লুটের সম্পদ নয়। তাই নিলামে না তুলে প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে তাদের পাথর সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রকৃত মালিকদের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, পাথর নিলামের সিদ্ধান্ত তাদের নয়। উপজেলা প্রশাসন এই নিলাম করেনি। খনিজ সম্পদ বিভাগ পাথরগুলো নিলামে তুলেছে।
পাথরের স্তূপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২৩০ পরিবারের শ্রম, ঘাম আর বেঁচে থাকার গল্প। সেই গল্পের শেষটা নিলামে হবে, নাকি যাচাই-বাছাই শেষে নিজেদের সম্পদ ফিরে পাবেন তারা এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বনপুরের মানুষ।