পারভেজ আহমদ :::: সিলেটের পবিত্র হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-এ ভক্তদের দানকৃত অর্থ সংগ্রহের ডেগ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলগালা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেগগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে আনসার সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মাজারের দান-অনুদানের অর্থের হিসাব, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হলেও সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয় এবং এর স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় কি না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, হযরত শাহজালাল (রহ.) আজীবন অবিবাহিত ছিলেন। ফলে মাজারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উত্তরসূরি বা খাদেম পরিচয়ে যারা দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তাদের আইনগত ও প্রশাসনিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানতে চেয়েছেন, ধর্মীয় অনুদান ও দানের অর্থ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে কি না।
এদিকে প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক সচেতন নাগরিক। তাদের মতে, মাজারের দান-অনুদানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি দানের অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র সহায়তা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত।
তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সবার।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ডেগ সিলগালার মধ্য দিয়ে কি অবশেষে মাজারকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও অস্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনার অবসান ঘটবে, নাকি আগের মতোই সবকিছু চলতে থাকবে সেই উত্তরই এখন খুঁজছে সিলেটবাসী।
Leave a Reply