হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে লোডশেডিং যেন কিছুতেই থামছে না। ইদানীং ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচংয়ে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ পাওয়ার কারণেই এই লোডশেডিং সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতের বেলা ঘুমাতে পারছেন না এলাকাবাসী। কিছুক্ষণ পরপরই চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ।
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা, যারা চরম কষ্টে পরীক্ষা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। বড়বাজারের ফার্মেসী ব্যবসায়ী বদরুল লস্কর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গতরাত থেকে আজ সারাদিন ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ নিয়েছে। বিদ্যুতের এমন ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি পাবো জানি না।
এদিকে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ভূতুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়েও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। গত কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেকের অভিযোগ, আগের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেশি বিল আসছে।বড়বাজারের ব্যবসায়ী রাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে লোডশেডিং, অপরদিকে বিদ্যুতের বাড়তি দাম। সব মিলিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করছি আমরা।’
পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আগের তুলনায় ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম প্রায় দেড় টাকা বেড়েছে, যার ফলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলও বেড়েছে। সব মিলিয়ে লোডশেডিং ও ঊর্ধ্বমুখী বিদ্যুৎ বিল, এই দুই সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন বানিয়াচংয়ের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। দ্রুত এর সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply