বিশেষ প্রতিনিধি ::: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে অবৈধ ড্রেজার (স্থানীয় ভাষায় ‘বোমা মেশিন’) দিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি রাতে শতাধিক ড্রেজার নদীর বুক চিরে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর তলদেশ ও দুই তীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে নদীভাঙন এবং বিলীন হচ্ছে শত শত বসতভিটা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দেড় মাসে যাদুকাটা নদীর কয়েকটি অংশে নদীর প্রস্থ প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। নদীতীরবর্তী বহু পরিবার ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ইজারার আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী একযোগে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাদুকাটা নদীতে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ নামে দুটি বালুমহাল এবং একটি ফাজিলপুর বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি রয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য দুটি বালুমহাল ১০৬ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। তবে নতুন ইজারা কার্যক্রম আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় সেই সুযোগে রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা যাদুকাটা নদী শুষ্ক মৌসুমে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু এখন সেই নদীতেই রাতভর ড্রেজারের শব্দে কেঁপে উঠছে জনপদ। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীর অস্তিত্ব, জীববৈচিত্র্য এবং আশপাশের পর্যটন এলাকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকজনকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বাজেটও চাওয়া হয়েছে।
যাদুকাটা নদী রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি গত ২৫ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করে নদীর দুই তীর, পর্যটন এলাকা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কোস্ট গার্ড মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যাদুকাটা-১ বালুমহালের ইজারাদার নাছির মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। অপর ইজারাদার শাহ রুবেল আহমেদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply