সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :::: সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক বিরোধের জেরে আছিয়া বেগম নামে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)| গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে (৩০)|
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে র্যাব-৯ এবং র্যাব-৬ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার মো. নূর মিয়ার ছেলে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান- আছিয়া বেগম ও বিবাদীরা পরস্পর আত্মীয় এবং একই এলাকার বাসিন্দা| আছিয়া বেগমের মেয়ের একজন প্রবাসী| বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়ের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার কয়েকদিন আগে মেয়ের শ্বশুর নূর মিয়া (মামলার ৫নং বিবাদী) ও তার পরিবারের লোকজন আছিয়া বেগমের মেয়েকে ব্যাপক মারধর করে| এই ঘটনার মীমাংসার লক্ষ্যে গত ৭ জুন সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি সালিশ ˆবঠকের আয়োজন করা হয়| ˆবঠকে আছিয়া বেগম এবং তার উপস্থিত ছিলেন|
সালিশ ˆবঠক শেষে নিজ বাড়ি ফেরার পথে নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে| নূর মিয়ার হুকুমে আসামিরা রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি ও লাঠি দিয়ে আছিয়া বেগম ও তার মীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়|
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ¯^ামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান| সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন| সেখানে চিকিৎসাধী
ন অবস্থায় ওই দিনই সন্ধ্যায় আছিয়া বেগম মারা যান|
এই ঘটনার পর নিহতের বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন| এর প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৯ (সদর কোম্পানী, সিলেট) এবং র্যাব-৬ (সিপিসি-৩, যশোর) জানতে পারে যে, মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর রহমান যশোরে আত্মগোপন করে আছেন| পরে শনিবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব|
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে|
Leave a Reply