মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
শিরোনাম :
অসুস্থ প্রবীণ মুরুব্বি আবু বক্করের শয্যাপাশে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী জকিগঞ্জের খাসেরা থেকে গ্রে প্তা র আবুল কালাম সিলেটে যে অভিযানে ধরা পড়লেন ৮৫ জন সিলেটে সদর উপজেলা তাঁতীদলের আনন্দ মিছিল স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে চার দিনব্যাপী ‘সামার ফেয়ার ২০২৬’ মেলার উদ্বোধন পরিবেশ দিবস পালন: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলের মৃত্যু বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানোর দাবিতে শাবিপ্রবিতে মানববন্ধন গোয়াইনঘাটে গ্রাম পুলিশ আসাব উদ্দিনের স্মরণে দোয়া মাহফিল বানিয়াচংয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, মাদক ও গ্রাম্য দাঙ্গা দমনে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান সিলেটে র‌্যাব দেখে দৌড়: ৫ জনের ফোনে মিললো ভয়াবহ তথ্য জুলাই মাসের জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা ছেলের চিকিৎসার জন্য বুট বিক্রি করা সেই বাবাই আজ বিশ্বকাপের নায়ক নকআউটের আগে স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে বাংলাদেশি সমর্থকদের ভিডিও দেখে ধন্যবাদ দিলেন আলিসন জয়ার পছন্দ পর্তুগাল, তবে মেসিকেও ভালো লাগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হলেন সরোয়ার হোসেন তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন সিলেটে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নয়দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ নারী, নানা প্রশ্ন সিলেটে ডিবি পুলিশের ধাওয়া, আ ট ক ৩ গোলাপগঞ্জে কাঁচাবাজার সমিতি নেতৃবৃন্দের সাথে লিটন আহমদের মতবিনিময় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অ ব রো ধ করলো শিক্ষার্থীরা সিলেটে ভ্রাম্যমান আদালতের অ ভি যা ন, অতঃপর… কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীর শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল সিলেটে যে কারণে প্রাণ গেল আরও এক শিশুর সিলেটের ঐতিহ্যের সাতকরা এখন ভারতনির্ভর, দেশে উৎপাদন প্রায় বিলুপ্ত লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলল সংযুক্ত আরব আমিরাত সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৫ শতাধিক আফটারশক, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

সিলেটের ঐতিহ্যের সাতকরা এখন ভারতনির্ভর, দেশে উৎপাদন প্রায় বিলুপ্ত

সিলেটের ঐতিহ্যের সাতকরা এখন ভারতনির্ভর, দেশে উৎপাদন প্রায় বিলুপ্ত

পারভেজ আহমদ ::: লেবুজাতীয় সুগন্ধি ফল সাতকরা সিলেটের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। বিশেষ করে গরু বা খাসির মাংস রান্নায় সাতকরার অনন্য স্বাদ ও ঘ্রাণ ভোজনরসিকদের কাছে এটিকে করে তুলেছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে আসা পর্যটক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের খাবারের তালিকাতেও সাতকরা দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস থাকে পছন্দের শীর্ষে।

 

তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, সিলেটের পরিচিত এই ফলের বাজার এখন পুরোপুরি ভারতীয় আমদানির ওপর নির্ভরশীল। একসময় সিলেট অঞ্চলে সাতকরার গাছ ও বাগান থাকলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির জন্যও ভারত থেকেই সাতকরা আমদানি করা হচ্ছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে শুধুমাত্র সিলেট জেলায় মাত্র ১ হেক্টর জমিতে সাতকরার আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ মেট্রিক টন। বিভাগের অর্ধশতাধিক কৃষিপণ্যের তালিকায়ও সাতকরার উপস্থিতি এখন প্রায় নেই বললেই চলে।

 

একসময় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ‘সাতকরাকান্দি’ গ্রাম সাতকরার জন্য সুপরিচিত ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখন সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি গাছ ছাড়া উল্লেখযোগ্য উৎপাদন আর নেই।

 

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বিভিন্ন রোগবালাই এবং কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে সিলেটে সাতকরার বাণিজ্যিক চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দেশের বাজার এখন ভারতীয় সাতকরার ওপরই নির্ভরশীল। এসব সাতকরার একটি অংশ আবার ‘সিলেটি সাতকরা’ নামে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

 

এদিকে গত বছরের লোকসানের প্রভাব পড়েছে চলতি মৌসুমের আমদানিতেও। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও কদমতলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সাতকরার সরবরাহ খুবই কম। যে কয়েকটি পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই ছোট আকারের এবং পুরোপুরি পরিপক্ব নয়। মানভেদে প্রতিটি সাতকরা ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দাম রাখা হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ভারতের আসাম ও মেঘালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সাতকরা আমদানি হয়। কিন্তু এবার আমদানি কম হওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে।

 

বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী মোসাইদ আলী বলেন, “ঈদের সময় সাতকরার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রবাসীরা দেশে এসে বেশি কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার বাজারে পর্যাপ্ত সাতকরা নেই।

 

কদমতলী ফল বাজারের পাইকারি বিক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, বর্তমানে ভারত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বস্তা সাতকরা আমদানি হচ্ছে। তবে প্রতি কেজিতে ৭৬ টাকা সরকারি করসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবুও সিলেটের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই অনেকেই এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

সাতকরা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাজমুল আলম লিজন বলেন, “সিলেটে এখন আর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সাতকরা উৎপাদন হয় না। ভারতের আসাম, মিজোরাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকাতেই মূলত সাতকরা জন্মে। সেখান থেকেই আমরা আমদানি করি। লোকসানের কারণে আগে যেখানে ৪-৫ জন আমদানিকারক ছিলেন, এখন এক-দুইজন ছাড়া প্রায় সবাই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

 

সিলেটের খাদিমনগর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. রকিবুল ইসলাম রুমন বলেন, “সিলেটে যে সাতকরা পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই ভারত থেকে আমদানি করা। জকিগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের করিমগঞ্জে প্রচুর সাতকরার বাগান থাকলেও সিলেটে তেমন কোনো বাণিজ্যিক বাগান নেই। তাই সাতকরাকে সিলেটের নিজস্ব পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়।

 

তিনি জানান, জৈন্তাপুরের সাইট্রাস রিসার্চ ইনস্টিটিউট সাতকরা নিয়ে গবেষণা করছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কিছু গাছ লাগানো হলেও সেগুলোর বৃদ্ধি ধীরগতির এবং এখনও ফল আসেনি।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, “একসময় সাতকরা সিলেটের গর্ব ছিল। কিন্তু এখন এর বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রায় নেই। বর্তমানে বাজারের চাহিদা ভারতীয় সাতকরার মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। সেই সাতকরারই একটি অংশ ‘সিলেটি সাতকরা’ নামে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।”

 

একসময় সিলেটের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল সাতকরা। অথচ আজ সেই ঐতিহ্যের ফলই স্থানীয় উৎপাদনের অভাবে সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। কৃষিবিদদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com