সিলেট নগরীর শিক্ষা অঙ্গনের সুপরিচিত ও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ এবং ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা–২০২৬ এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কলেজের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দুই শিফটে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষার্থী, তাদের গর্বিত অভিভাবক এবং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অডিটোরিয়াম এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
কলেজ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব সকাল ১০:৩০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত চলে এবং দ্বিতীয় পর্ব দুপুর ২:৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেলে সমাপ্ত হয়। কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন অফিসার) ইসমত আরা পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কলেজের মান্যবর উপাধ্যক্ষ সবল কুমার তালুকদার। অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সরাসরি উপস্থিত রেখে সংবর্ধিত করা হয়, যা পুরো কলেজ প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর আমেজ তৈরি করে।
সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং কলেজের অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের অভিজ্ঞতালব্ধ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অধ্যক্ষ রোটারিয়ান মোহাম্মদ মহি উদ্দিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং একাদশ শ্রেণিতে তাঁদের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় সফলভাবে শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ (শাহপরান ক্যাম্পাস)-এর মান্যবর চিফ স্বপন কুমার রায়।
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অর্জিত সাফল্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক মাইলফলক মাত্র। আগামীতে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে হলে এখন থেকেই কঠোর অধ্যবসায়, কঠোর শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। একইসাথে তাঁরা গুরুত্ব দেন যে, শুধু ভালো ফল করলেই চলবে না, বরং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। পাশাপাশি বক্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা সন্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিকভাবে পাশে থাকেন, কারণ শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এবং ইতিবাচক মানসিক বিকাশে অভিভাবকদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের বিগত বছরের গৌরবময় ইতিহাস ও ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। “কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা”—এই মহৎ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১০ সালে সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সূচনা লগ্ন থেকেই কলেজটি সিলেটের শিক্ষাঙ্গনে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এ+ সহ শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। সার্ক কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের সেরা মেডিকেল কলেজসমূহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য স্বনামধন্য ও খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃতিত্বের সাথে অধ্যয়ন করছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থীই শিক্ষা জীবন শেষ করে দেশ-বিদেশে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সার্ক কলেজের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরব যোগ করেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্তে আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আকর্ষণীয় সুবিধা ও স্কলারশিপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এই বিশেষ সুবিধা হিসেবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১০ জন সেরা শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নের সুবর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পথ সুগম করতে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি ও ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংবর্ধিত পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক বা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়, যা পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়। অনুষ্ঠান সমাপ্তির আগে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করা হয় যে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তাঁদের সন্তানকে অন্য কোনো কলেজে ভর্তি করানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে তারা যেন অন্তত একবার সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজের মনোরম ও সুসংগঠিত ক্যাম্পাসটি সরাসরি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে গিয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী ও পরিচালনা পর্ষদের সাথে সরাসরি কথা বলে পড়াশোনার সার্বিক পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা মূল্যায়ন করেন। পরিশেষে, সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।