দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে বাংলাদেশকে না জানানোর কারণ জানতে সৌদি আরবের কাছে ফের কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে ঢাকা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের কাছে সৌদি আরবের পাঠানো বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল এবং তাদের অপরাধের বিবরণ ছিল। তবে, সাজা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়নি। সৌদি কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু সৌদি কর্মকর্তা এ প্রশ্নের উপযুক্ত জবাব দিতে পারেনি।
সৌদির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেফতারের পর যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথমে নিম্ন আদালত দুই আসামির দণ্ড দেন। পরে আপিল আদালতে ১৩ জন বিচারককে নিয়ে গঠিত প্যানেল তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। আদালতের রায় অনুসরণ করে নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত পৃথক সেলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানান, কনসাল জেনারেল সৌদি কর্মকর্তার কাছে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মামলার বিবরণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত চেয়ে ফের চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে যত দ্রুত সম্ভব দণ্ডিত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর জানায়। এর পরদিন, ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক পত্র দিয়েছিল। এরপর, ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে পুনরায় এই কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়।