দেশের ১৪ শত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দেশে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এখনো ফ্যাসিবাদী হামলা চলছে। ঠিক একই পথে চললে আগামী দিনে আপনাদের সঙ্গে আমাদের শক্ত লড়াই হবে, ইনশাআল্লাহ!
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত আটটার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) বাজারের গোডাউন মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোট’ বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী চলমান ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়। এনসিপি হাকিমপুর উপজেলা শাখা ও ১১-দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই পথসভার আয়োজন করেন।
পথসভায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বর্তমান তরুণ-তরুণীদের বুকে আছে ওসমান হাদীর আগামীর ও বিশ্বাসের স্বপ্ন।
উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোটের আগে আমরা এ দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, আলেম-ওলামাদের সুরক্ষা ও সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা বিএনপিকে কোনো টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজকে মনোনয়ন না দিতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা বলেছেন— এটি তাদের দলের পুরনো ঐতিহ্য, যা তারা ছাড়তে পারবে না। আমরা যখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছি, তখন তারা বলেছে— আপনাদের ওসব দেখতে হবে না, আমরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের নিজেদের (২ নম্বর) লোক বসাবো।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগামীতে যে লড়াই হবে, তা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই হবে জুলাই সনদ ও গণভোট অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে; ১৪ শত ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, তাদের বিরুদ্ধে।
পদযাত্রায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র— এ পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু ভারত যদি কথা ও কাজের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করতে চায় যে তারা দাদাগিরি বা আধিপত্যবাদ বহাল রাখবে, তবে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই— এ ধরনের রাষ্ট্রকে আমরা বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী মনে করি না। যারা একজন গণহত্যাকারী ও ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের আশ্রয় দেয়, যারা আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা দেয় না, খরার সময় পানি আটকে রাখে আর বর্ষায় পানি ছেড়ে দিয়ে লাখো মানুষকে বিপদে ফেলে, তারা কোনোদিন আমাদের বন্ধু হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো ফেলানী হত্যা বা সীমান্ত হত্যা হলে, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিজিবি ভাইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত রক্ষা করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার বাবা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে দেশের জনগণ আপনাকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আগামী দিনে জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন না হলে, এদেশের জনগণ আপনাদেরও ছুঁড়ে ফেলে দেবে।
এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সবাই প্রত্যাশা করেছিলাম একটি নতুন বাংলাদেশ পাবো। যেখানে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, ঘুষ ছাড়া চাকরি হবে এবং মেধার মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, মানুষ যে নতুন রাষ্ট্র গড়ার জন্য ভোট দিয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। আমরা দুটি ভোট দিয়েছি— একটি সরকার গঠনের, আরেকটি গণভোট। তারা সরকার গঠন করেছে ঠিকই, কিন্তু গণভোটের রায়কে আর মানছে না। এ কারণে দেশের মানুষ এখন আশাহত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
পথসভায় এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদ, হাকিমপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আমিনুল ইসলামসহ এনসিপি ও ১১-দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply