শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনার সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি চিঠিটি পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় দানবাক্সের অর্থ গণনার সময় চিঠিটি উদ্ধার করা হয়।
চিঠির শুরুতেই লেখক লিখেছেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আমি জানি না আমার এই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে কি না।’ এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।
চিঠিতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। রামিসা, আছিয়া ও হাদীর ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিও জানানো হয়।
মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিঠির লেখক। তার ভাষায়, ‘বিশেষ করে মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, আমার মনে হয় তাদের হাত অনেক বড়। না হলে তারা থানা ম্যানেজ করে কীভাবে? আমার মনে হয়, গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত।’
চিঠির শেষাংশে ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ লিখে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামে স্বাক্ষর রয়েছে।
তবে চিঠিটি উদ্ধারের বিষয়ে মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির কোনো সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার প্রকাশ্যে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের প্রতিনিধি এবং মাজার-সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও মাদরাসার প্রতিনিধিরা। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।
Leave a Reply